বাণিজ্য ও সামাজিক সম্পর্কও ধীরে ধীরে শহরের কেন্দ্র ছেড়ে সরে গেছে। বড় শপিং মল, আউটলেট, নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক অঞ্চল—সবই সুবিধাজনক ও কার্যকর। কিন্তু সেখানে নেই অপ্রত্যাশিত দেখা হওয়ার আনন্দ, ধীরে বসে থাকার অবকাশ, বা হঠাৎ আলাপের উষ্ণতা।
আজ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র তার অভিবাসন নীতিতে কঠোর পরিবর্তন এনেছে। অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। মেক্সিকো সীমান্তে ব্যয়বহুল প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো—এই ভূখণ্ডের আদি অধিবাসী ছিল আদিবাসী জনগোষ্ঠী; ইউরোপীয় বসতিস্থাপনকারীরাও একসময় অভিবাসী ছিল।
প্রযুক্তি, রাজনীতি ও সমাজের সন্ধিক্ষণে—বাংলাদেশ কি প্রস্তুত এআই যুগের জন্য?
রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের জন্য প্রথম ও প্রধান বিষয় হলো প্রস্তুতি। বিদেশি সাংবাদিকের সামনে দাঁড়ানো মানে ব্যক্তিগত মতামত দেওয়া নয়; বরং দেশের রাজনৈতিক অবস্থান, দাবি ও বাস্তবতাকে প্রতিনিধিত্ব করা। সে ক্ষেত্রে ভাষাগত দুর্বলতা কোনো অজুহাত হতে পারে না।
নতুন বাংলাদেশে মানুষ রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, কামার, কুমার—যাই হোক না কেন, পরিচিত হবে তার শ্রম ও প্রতিভায়। আমরা যে ঘরে থাকি, যে চেয়ারে বসি, যে হাঁড়িতে ভাত রান্না করি, যে রাস্তা দিয়ে চলি—সবকিছুর পেছনেই আছে এই মানুষের হাত।
বাংলাদেশের রাজনীতির সূচনা হয়েছিল গণরাজনীতির ভেতর দিয়ে। ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ একটি সুস্পষ্ট রাষ্ট্রচিন্তা নির্মাণ করেছিল—রাষ্ট্র জনগণের, ক্ষমতা জনগণের সম্মতির ফল। কিন্তু স্বাধীনতার পর খুব দ্রুতই সেই ধারায় ছেদ পড়ে।
কান্নাকাটি করলেই বলতেন, আমার মেয়ের মনোবলে এত কম হলে হবে? তারপর জীবনের কত চড়াই–উতরাই গেল। দুটো বাবু নিয়ে আলাদা জীবনযাপন শুরু করলাম। ফোনে শুধু শুনতাম, মা তুমি পারবে, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো, তোমার দায়িত্ব আমার নানুদের সুন্দর করে মানুষ করা।
এই মিলনমেলা আমাকে নতুন করে বুঝিয়ে দিল—শিক্ষা শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, শিক্ষা এক ধরনের আত্মীয়তা। যে কলেজই হোক, যে ব্যাচই হোক—যখন কিছু মানুষ তাদের ছাত্রজীবনের স্মৃতি নিয়ে একত্র হয়, তখন সেখানে এক ধরনের পবিত্রতা জন্ম নেয়। সেই পবিত্রতাই আমাকে গভীরভাবে আন্দোলিত করেছিল।
ক্লাসের শেষ দিকে তিনি মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী চলচ্চিত্রের কথাও বলেছিলেন। কীভাবে তখন শিল্প মানে ছিল দায়, কেবল জনপ্রিয়তা নয়। তিনি বলেছিলেন, “সেই সময় আমরা জানতাম, ভুল অভিনয় শুধু একটি চরিত্রকে নয়, একটি সময়কেও ভুলভাবে তুলে ধরে।”
গণতন্ত্রের উত্তরণ মানে কেবল নির্বাচন বা ক্ষমতার রদবদল নয়। এর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং নাগরিকের জানার অধিকার। গণমাধ্যম যদি এই দায়িত্ব পূর্ণভাবে পালন করতে না পারে, তবে গণতন্ত্রও খোঁড়া হয়ে পড়ে।
চীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়, তবু তারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অগ্রসর। অন্যদিকে বহু দেশ গণতন্ত্রের নামে সংগ্রাম করেও স্বৈরাচারের ফাঁদে পড়ছে। এই বৈপরীত্য বোঝায়—গণতন্ত্র কোনো জাদু নয়, এটি একটি ব্যবস্থা। জবাবদিহি, নৈতিকতা ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ছাড়া গণতন্ত্রও ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে পারে।
ভেনেজুয়েলার অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা আমাদের একটি স্পষ্ট শিক্ষা দেয়—আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বন্ধুত্ব নয়, স্বার্থই স্থায়ী। তাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার বদলে রাষ্ট্রকেন্দ্রিক কৌশল গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে জরুরি।
একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার যদি রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে একটি লিগে খেলতে না পারেন, তাহলে সেই লিগের নিরপেক্ষতা নিয়েই স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়। আরও বড় প্রশ্ন হলো—যদি একজন খেলোয়াড়ই নিরাপদ না হন, তবে ভবিষ্যতে অন্য দেশের দল বা খেলোয়াড়রা কতটা আস্থা নিয়ে সেখানে খেলতে যাবেন?
টাই বেঁধে যতই স্মার্ট লাগুক, গলার ভেতর মনে হয় কোনো অদৃশ্য হাত আস্তে আস্তে খুন করছে, আবার ভাবি, এ হয়তো প্রিয়তমা স্ত্রী তানিয়ার সরু দুই হাত, হাজার গোস্সাতেও খুন করবে না।
আজ যখন বলা হচ্ছে, “এটি আদর্শিক নয়, কেবল নির্বাচনী সমঝোতা”— তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যদি আদর্শ বিসর্জন দিতে হয়, তাহলে এনসিপি আর অন্যদের থেকে আলাদা থাকল কোথায়?
নেলসন ম্যান্ডেলা দীর্ঘ কারাবাসের পর প্রতিশোধ নয়, সমঝোতার রাজনীতি বেছে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। ইরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নির্বাসন ও প্রত্যাবর্তন রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামোই বদলে দেয়। প্রত্যাবর্তন কখনো স্থিতি আনে, কখনো নতুন সংকট সৃষ্টি করে।
যারা মনে করেন শক্ত হাতে শাসনই স্থিতিশীলতা আনে, তারা ভুলে যান—দমন দিয়ে নীরবতা আনা যায়, কিন্তু আস্থা তৈরি করা যায় না। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, ভয়ভিত্তিক ও ব্যক্তিনির্ভর শাসনব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকে না। কারণ সেখানে ভুল সংশোধনের শান্তিপূর্ণ পথ এবং ক্ষমতার ওপর কার্যকর নজরদারি থাকে না।
প্রথমেই আমরা প্রবেশ করি প্রায় এক হাজার আসনবিশিষ্ট গ্র্যান্ড থিয়েটারে। হলটিতে ঢোকার মুহূর্তেই আমার চোখ আটকে যায়। বিশাল হলেও কোথাও ভারী লাগেনি। বরং পুরো জায়গাটি আধুনিক, পরিমিত ও দৃষ্টিনন্দন।
এই সময় বাইরের জীবন কমে আসে, কিন্তু ঘরের ভেতরের জীবন সমৃদ্ধ হয়। মানুষ কম কথা বলে, কিন্তু গভীরভাবে ভাবে। মিডিয়ায় মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা বাড়ে। আলোচনায় আসে শীতকালের বিষণ্নতা, আত্মযত্ন ও সামাজিক সংযোগের গুরুত্ব।

একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার যদি রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে একটি লিগে খেলতে না পারেন, তাহলে সেই লিগের নিরপেক্ষতা নিয়েই স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়। আরও বড় প্রশ্ন হলো—যদি একজন খেলোয়াড়ই নিরাপদ না হন, তবে ভবিষ্যতে অন্য দেশের দল বা খেলোয়াড়রা কতটা আস্থা নিয়ে সেখানে খেলতে যাবেন?
০৪ জানুয়ারি ২০২৬
যারা মনে করেন শক্ত হাতে শাসনই স্থিতিশীলতা আনে, তারা ভুলে যান—দমন দিয়ে নীরবতা আনা যায়, কিন্তু আস্থা তৈরি করা যায় না। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, ভয়ভিত্তিক ও ব্যক্তিনির্ভর শাসনব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকে না। কারণ সেখানে ভুল সংশোধনের শান্তিপূর্ণ পথ এবং ক্ষমতার ওপর কার্যকর নজরদারি থাকে না।
২৩ ডিসেম্বর ২০২৫